ফিটনেস বাড়ানোর উপায়
দেহের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ধরে রাখাই হচ্ছে ফিটনেসের মূলকথা। বডি ফিটনেস মানেই শরীরকে অবসাদ ও অবসন্নতার মধ্যে না ফেলে স্বাভাবিক শ্রমলব্ধ পরিশ্রম করার দক্ষতা অর্জন। বডি ফিটনেস অক্ষুণœ থাকলে প্রতিদিনের কর্মচাঞ্চল্য যেমন ধরে রাখা যায় তেমনি স্বাস্থ্যগত অনেক রোগের ঝুঁকি থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।
নিয়মিত শরীর চর্চা এবং ব্যায়ম বা শারীরিক শ্রম বডি ফিটনেসকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। শারীরিক ফিটনেস পরিমাপের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ফ্যাক্টর বা নিয়ামক রয়েছে। দেহের মাংসপেশীর কর্মদক্ষতা ও স্থিতিস্থাপকতা, দৈহিক শক্তি (Strength), মাংস এবং অস্থিপেশীর সহনশীলতা, হৃদপিন্ড এবং ফুসফুসের কর্মদক্ষতা, দেহের পেশী এবং চর্বির অনুপাতের ভারসাম্য ইত্যাদি বডি ফিটনেসের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত শরীরচর্চা অনুশীলনের মাধ্যমে উল্লেখিত ফ্যাক্টরগুলোর প্রভূত উন্নতি সাধন করা যায়। ব্যায়ামের ফলে পেশীতন্তু বেশি পরিমাণে গ্লাইকোজেন ফুয়েল ধরে রাখতে পারে যা প্রয়োজনে শক্তির যোগান দেয়। ব্যায়ামে রক্তনালীতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সবরাহ হয় ফলে প্রতিটি অঙ্গ বিশেষত: হৃদপিণ্ড এবং ফুসফুসের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায়। আমেরিকান কলেজ অব স্পোর্টস্ মেডিসিনের এক পরিলেখ পত্রে সুস্থ মধ্য বয়স্কদের সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচদিন কমপক্ষে ত্রিশ মিনিট ব্যায়মের পরামর্শ দিয়েছে। তবে তাদের জন্য মাঝারি ধরনের ব্যায়াম ভাল। একই সাথে সপ্তাহে দুই দিন এমন ব্যায়াম করা উচিত যাতে শরীরের অধিকাংশ বড় পেশীগুলো সম্পৃক্ত থাকে।
স্ট্রেচিং ব্যায়াম পেশীর কর্মদক্ষতা বাড়ায়, পেশীকে আঘাত থেকে রক্ষা করে। স্ট্রেচিং অস্থি-সন্ধিকে পূর্ণমাত্রায় নাড়াচাড়া করতে দেয় এবং পেশীর সম্প্রসারণ ক্ষমতা বাড়ায়। বডি ফিটনেস বাড়াতে, অ্যারোবিক এবং অন্যান্য শারীরিক শ্রম এবং ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ।
কায়েদ-উয-জামান
সহকারী অধ্যাপক, জীববিজ্ঞান বিভাগ,
শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ, জামালপুর।





